কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা ও সংকট তৈরি হয়নি—সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীরা সবাই চামড়ার ন্যায্য দাম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ঈদে মসলাসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারও স্বাভাবিক ছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে, চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে, যারা বেশি দামে চামড়া কিনেছেন, তাদের লোকসানের দায়-দায়িত্ব ট্যানারি অ্যাসোশিয়েশন নেবে না।
ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন, আড়তদার, ফড়িয়া ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখোমুখি হলেও, বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনবেন না।
তাদের দাবি, চামড়ার কোনো ঘাটতি নেই, দু-একদিনের মধ্যেই চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশা করেছেন তারা। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের চামড়া ভারতে পাচার হচ্ছে।
এছাড়া, ঈদের তৃতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লালবাগের পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া আসছে। যদিও এখানকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকদের কারসাজিতে, পোস্তার ব্যবসায়ীরা, চাহিদা মাফিক কাঁচা চামড়া কিনতে পারছেন না।
পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়ার স্বল্পতা থাকলেও, ঘাটতি নেই হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোতে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য, পশুর চামড়া এরই মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করেছে ট্যানারিগুলো।
পোস্তার ব্যবসায়ীদের কারসাজির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে, ট্যানারি মালিকরা বলছেন, তারা বাজার দর অনুযায়ীই চামড়া কিনেছেন। তবে যে সব ব্যবসায়ী বেশি দামে কোরবানির পশুর চামড়া কিনেছেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে চামড়া কিনবেন না।
দেশের বাজারে কম দামের কারণে ভারতে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার হচ্ছে দাবি করেছেন ট্যানারি মালিকদের।
তবে বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম বাড়লে মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও আরতদারদের কাছ থেকে বেশি দামেই চামড়া কেনার আশ্বাস দিয়েছে ট্যানারি অ্যাসোশিয়েশন।