বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ শক্তিশালী এবং দরিদ্র বান্ধব আর সে কারণেই মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দারিদ্রের হার কমে আসছে বলে মনে করছে সরকার জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। রোববার সকালে রাজধানীতে সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসডিজিতে যে ১৬ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্জন সার্কভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় ভাল।
গত ২০০৬ সালে ১৩তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশসমুহের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণ সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। যাতে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ৪টি ক্ষেত্রে ২২টি লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েয়ে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সে লক্ষ্য কতটা অর্জন করতে পরেছে তা নিয়ে তৈরি করেছে সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৬৬% শিশু কম ওজনের ছিল তবে ২০১১ সালে এ হার নেমে এসেছে ৩৬%। আর প্রায় ৫৭% দারিদ্রতার হার নেমে এসেছে ২৬%। সার্বিক লক্ষ্য পুরণে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটে সরকারি ব্যয় বেড়ে ৯.৬১% হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের হিসেবে প্রায় ৩৭% এখন গ্রামে হয়ে থাকে। অর্থনীতির মুল ধারায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। যে কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভূক্তিমুলক বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কমানো, ন্যায় বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, শিশু মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, এবং শিক্ষার হার বাড়ানোসহ সব ধরনের সুচকেই বাংলাদেশের অবস্থান ভাল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ক্রয় ক্ষমতার সুচকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সবচেয়ে নিচে বলেও সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।