মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পরেও বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার মূলক বাণিজ্য সুবিধা-জিএসপি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।
ব্রাসেলসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নেয়া সাসটেইনেবল কম্প্যাক্ট প্যাকেজের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা সভায় তারা এ আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বৃস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমুলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপিয় কমিশন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সন্তোষ প্রকাশ করলেও আরো কাজের তাগাদা দিয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে, সাসটেইনেবল কমপ্যাক্ট নামে একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের তাগিদ দেয় ইউরোপীয় কমিশন। ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা, দর-কষাকষির অধিকার, মুজুরি বৃদ্ধি, শ্রম আইনের সংশোধন, কারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তাসহ ১৬টি শর্ত এ প্যাকেজে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
এসবের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ২০ অক্টোবর বৈঠকে বসে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শর্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আরো উন্নয়নের তাগাদা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন, যুক্তরাষ্ট্র ও আইএলও।
মন্ত্রী আরো জানান, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেই লক্ষ্য অর্জনের পরও বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ইসি।
শ্রম আইনের সংশোধিত বিধিমালা এ বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে বলে এ সময় জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আগামী ৩০ অক্টোবর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত ২০ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশন, যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) মধ্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ পর্যালোচনা নিয়ে এক বৈঠকে ইউরোপের নেতারা জিএসপি প্লাস নামে বিশেষ সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে আরো অগ্রগতির তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাষ্ট্র।