দীর্ঘ ৯ মাস পর বিনিয়োগকারীরা আবার তাদের ব্যবসায় ফিরতে শুরু করেছে, বিনিয়োগ প্রবাহের ক্ষেত্রে যে ধারা সূচিত হয়েছে তা কেউ রুখতে পারবে না জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দু’দিনব্যাপী এসএমই ফাইন্যান্সিং ফেয়ার-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে বিনিয়োগের ভাল পরিবেশ থাকার স্বত্ত্বেও অনেক চেষ্টা করে বিনিয়োগ বাড়ানো যাচ্ছিল না। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এখন আবার বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে। এই সূচনাকে ধরে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ১০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। যেটাকে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বড় নির্দেশক বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মুহিত বলেন, দেশে বড় ধরনের আভ্যন্তরীণ চাহিদার সৃষ্টি হওয়ায় বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির এই নিজস্ব শক্তিকে কেউ আর আটকে রাখতে পারবে না।
অর্থনীতিতে এসএমই’র গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত অনেক গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোট অর্থনীতির প্রায় ৭০ শতাংশ হলো এই এসএমই-এর অবদান, সেটা শিল্প ব্যবসা বা সেবা যেটাই হোক না কেন। অর্থনীতির প্রাণ কেন্দ্র হলো উৎপাদন আর এ উৎপাদনে প্রাণকেন্দ্র হলো এসএমই। তবে এর সাথে এখন ‘অতিক্ষুদ্র’ খাত সংযোগ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান। কারণ বর্তমানে এ খাতের অবদান ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে এসএমই খাতের উন্নয়নে বড় বাধাগুলো তুলে ধরে বিবি গভর্নর বলেন, সহায়ক জামানত প্রদানে অপরাগতা, ব্যবসায় দক্ষতার অভাব, ঝুঁকি মোকাবেলায় সীমিত সামর্থ্য, ব্যবসায়ীক সাফল্য সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদানে সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে বড় বাঁধা।
যেসব প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে তাদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।
এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বলেন, এইসএমই উদ্যোক্তাদের মূল সমস্যা হলো ঋণ প্রাপ্তি। উচ্চ সুদহারে ঋণ নিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে না। তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনুরোধ করে বলেন, কোনো ভাবেই যেন ১০ শতাংশের ওপরে সুদের হার নিধারণ করবেন না। চেষ্টা করবেন এটা সিঙ্গেল ডিজিট ৯ শতাংশের মধ্যে রাখতে।
অনুষ্ঠানে ১০টি ক্যাটাগরিতে ৫টি ব্যাংক ও ৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বর্ষসেরা এসএমই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পরে অর্থমন্ত্রী এসএমই মেলার উদ্বোধন করেন এবং মেলার স্টল ঘুরে দেখেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসএমই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিবউল্লাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশেনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ, শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সৈয়দ মো. ইহসানুল করিম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। সূত্র বাসস।