আগামী চার বছরের মধ্যে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী আগারগাঁওয়ের দারিদ্র বিমোচন নিয়ে সামাজিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-এসডিএফ আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের দারিদ্র বিমোচনের লক্ষে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের অর্থায়নে যাত্রা শুরু করে এসডিএফ। আর ১৪ বছরের যাত্রাকালে এ প্রতিষ্ঠানটি ১০ লাখ মানুষকে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনো ৮০ লাখ দরিদ্র লোক রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০১৮ সালের মধ্যে তারাও দারিদ্রমুক্ত হবে।
আবদুল মুহিত বলেন, ‘এদেশের দারিদ্র জনগোষ্ঠী আগামী চার বছরের মধ্যে থাকবে না। দারিদ্রসীমার নিচে যে লোক হবে তা ১৫% বেশি হবে না। আবার যে দেশে ১৫% দারিদ্র হয় সেখানে দারিদ্র নেই। শূন্য যারা দাবি করেন তারা আসলেই পাগল। শূন্য দারিদ্র কোনোভাবেই হতে পারে না।’
এ সময় স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেশেকে দারিদ্র্র মুক্ত করার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে দুর্যোগ কিন্তু শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি একটা পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় র্দুযোগ হলো স্বাস্থ্যসেবা।’
দারিদ্র বিমোচন নিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দারিদ্রের হার কমে আসলেও এ খাতে বিনিয়োগ এখন অনেক কম, দেশকে দারিদ্রমুক্ত করতে হলে সামাজিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একটা বড় বন্যা বা ঝড় হলে বা একটা বড় দুর্যোগ হলে দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না। সুতরাং খুব সাবধানে এ কাজটি করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে। আর এ বিনিয়োগ হবে সামাজিক বিনিয়োগ।’
আর অর্থনীতিবীদ বিনায়ক সেন বলেন, স্বাস্থ্য সেবা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি বাড়াতে হবে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিসর।
সামাজিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করলেও আগামীতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার আহবান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।