বিগত ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত পাঁচ বছরে সাতটি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় হাজার ২০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে অডিট রিপোর্টে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন মহাহিসাব নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ।
এরমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৬২৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। তবে এটি আর্থিক অনিয়মের পুরো চিত্র নয়। মাত্র দশ শতাংশ লেনদেন নিরীক্ষা করেই এ পরিমাণ অনিয়ম ধরা পড়েছে।
গত ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় পরিচালিত নিরীক্ষায় উঠে এসেছে ছয় হাজার একশো ৯৫ কোটি টাকার অনিয়ম বলে জানান মাসুদ আহমদে।
জনবল ও কারিগরি সহায়তার অভাবে অডিট কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মহাহিসাব নিরীক্ষক।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিটিআরসিতে, ২ হাজার ৬২৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এর জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিলীকরণে অনিয়ম হয়েছে প্রায় নয়শো কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রায়াত্ব, স্বায়ত্তশাসিত ও বিশেষায়িত সব ব্যাংকের হিসাব রক্ষণে প্রায় আটশো কোটি টাকা আর অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও সুদ মওকুফে প্রায় ৭১৪ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিলীতে প্রায় ৬৬৩ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা,এবং রেলওয়েতে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। তবে এসব অনিয়মকে দুর্নীতি বলতে নারাজ এ মহাহিসাব নিরীক্ষক।
অডিট রিপোর্ট বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১০ শতাংশ লেনদেন নিরীক্ষা করে এ পরিমাণ আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।