অর্থনীতি

গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে জনগণের মত নেয়া হবে: বিপু

বিপু
বিপু

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্যের মধ্যে ব্যর্থতা এবং গোজামিল ঢুকে গেছে আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতিতে ঝামেলা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শহরের গরীবরা। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানান বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে না, শুধু সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

তবে গ্যাসের দাম বাড়াতে জনগণের মতামত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় ও দুর্নীতিরোধে অচিরেই প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

জানুয়ারি থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে সমন্বহীনতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, জ্বালানি খাতে সরকারের সফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা কোনো অংশে কম নয়।

আগামী ৫ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যায় করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

তিনি বলেন, এ ২০ বিলিয়ন ডলারের মধ্য ১০ বিলিয়ন ডলার আসবে বিদেশি সহযোগিরতার মাধ্যমে এবং বাকি ১০ বিলিয়ন ডলার আসবে অংশীদারভিত্তিক সরকার ও প্রাইভেট বিভিন্ন কোম্পানির সহযোগিতায়।

দিনে সূর্যের আলো, আর সারারাত বৈদ্যুতিক আলো এটাই বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা। আমাদের দেশের মানুষ এখন ২৪ ঘণ্টাই কর্মব্যস্ত থাকতে পারে। গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখন দিনরাত কাজ চলে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পহেলা নভেম্বরে সারাদেশবাসী বিদ্যুহীন থাকার চূড়ান্ত রির্পোট দুই একদিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বেশি মূল্য দিয়ে হলেও দেশবাসী এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়।

নসরুল হামিদ আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আলোকিত বাংলাদেশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অর্জন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা জানান। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি ওই সেমিনারের আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, এফবিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য ড. সেলিম রহমান প্রমুখ।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় এবং দুর্নীতি রোধে শিগগিরই প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করা হবে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অপচয় রোধে ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। শিগগিরই আরও এলাকায় প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতি বন্ধে বিদ্যুৎ ও খনিজ মন্ত্রণালয়কে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড হলে এ খাতের দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

যত্রতত্র সিএনজি গ্যাস পাম্পের অনুমোদন দেওয়া বিএনপি জামাতের বড় ভুল ছিল দাবি করে নসরুল হামিদ বলেন, বিএনপি-জামাত জোট আমলে সরকার ব্যাপকভাবে সিএনজি পাম্পের অনুমোদন দিয়েছিল। ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা বড় বড় নগরীর বিভিন্ন জায়গা দখল করে তারা সিএনজি পাম্পের মালিক হয়েছে। সেই সময়ে গ্রাসের ব্যাবহার সঠিক ভাবে না হওয়াতে আজ দেশের গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

দেশের বিদ্যুত খাতে ২৪০০ কোটি মার্কিন ডলালের বিনিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী বলেন, গত পাঁচ বছরে বিদ্যুত খাতে যেসব প্রকল্প শেষ হয়েছে তাতে পাঁচ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে, যেসব প্রকল্প নির্মান কাজ চলছে সেখানে আট দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা তৈরির সময় অনেকেই অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু আমরা পাঁচ বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন দ্বিগুনেরও বেশি করেছি।

বিদ্যুতখাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মানুষের কর্ম দিয়ে তার পরিচয়। আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়ন করবো এবং বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে নিয়ে যাবো।

সেমিনারের শুরুতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত পাঁচ বছরের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার আদিত্য।

তিনি জানান, ২০০৯ সালের আগে দেশের ২৭টি বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৯৪২ মেগাওয়াট। ২০১৪ সালের জুনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪টিতে এবং উৎপাদন ক্ষমতা হয়েছে ১০৬৪৮ মেগাওয়াট। আগামী পাঁচ বছরে আরো প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে।

সুব্রত কুমার বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশে বিদ্যুত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৪ শতাংশ হয়েছে, যা ২০১৯ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে মাথাপিছু বিদ্যুত ব্যবহার ২২০ ইউনিট থেকে ৩৪৮ ইউনিটে পৌঁছেছে। আবার একইসময়ে সিস্টেম লস ১৬ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ বছরে জ্বালানি খাতে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র বাসস।

গত মার্চ মাসে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের প্রায় সাত শতাংশ দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। আর আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো জন্য এরই মধ্যে জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে জানায় পেট্রোবাংলা। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী দুই চুলার ক্ষেত্রে গ্যাসের বর্তমান দাম সাড়ে ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

ইবিএইউবি-এ পালিত হলো ‘শেখ রাসেল দিবস’

আবার দাম কমেছে স্বর্ণের

জুয়েলারি পণ্য অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে: এফবিসিসিআই সভাপতি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে বিজিএমইএ, আইজি ও আয়াত এডুকেশন

‘চায়না-বাংলাদেশ বাণিজ্য সহজীকরণ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ