হরতাল-অবরোধের বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসানের পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিশ্বব্যাংকের হিসেবে ২০১৩ সালে ৪৫ দিনের হরতাল-অবরোধে এ খাতে লোকসান হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। আর ব্যবসায়ীদের হিসেব অনুযায়ী এবার ১৬ দিনেই এর পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বলে জানান বিজিএমইএ- এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি সংকট ও গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে প্রকৃত ক্ষতি আরও অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চালিকাশক্তি পরিবহন ব্যবস্থা। কিন্তু অবরোধ আর হরতালের কারণে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের হিসেবে অবরোধের কারণে শুধু পরিবহন খাতেই দিনে লোকসান হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।
পরিবহন সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।
ব্যবসায়ীদের হিসেব অনুযায়ী, প্রতিদিন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে লোকসান হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা এবং রপ্তানিতে প্রায় ৭০০ কোটি। এর পাশাপাশি আছে দেশের ভাবমূর্তি সংকটসহ বেশ কিছু সুদূরপ্রসারি অদৃশ্য ক্ষতি।
কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং পর্যটনসহ অর্থনীতির সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে এবারের হরতাল-অবরোধে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ঋণ খেলাপীর সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। বিনিয়োগেও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব।
আবার রাজস্ব আয়ে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তেমনি জিডিপির কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
২০১৩ সালের সালে তুলনায় এ বছর ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ বলে জানান তিনি।