ভোক্তাপর্যায়ে সব ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা
বুধবার রাজধানীতে টিসিবি ভবনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে এ কথা বলেন তারা।
শুনানি চলাকালে কমিশনের বাইরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সিপিবি ও বাসদ।
কোম্পানিগুলো গণশুনাতিতে দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে তাও আইনি কাঠামো মেনে করা হয়নি অভিযোগ তুলে শুনানি স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির গড়ে ৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবে বিপরীতে দাম ২.৪৯% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
টিসিবি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তবে ভোক্তাদের স্বার্থে হয়রানি বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ইউনিট প্রতি ৮১ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করার তেরো দিনের মাথায় সকল পর্যায়ের গ্যাসের দাম গড়ে ৪০% বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে গ্যাস সরবরাহ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলো। এতে করে প্রতি হাজার ঘনমিটারে ২৫ টাকা করে বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে জ্বালানি মূল্য বর্তমানে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে সেখানে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক মনে করছেন বাম নেতারা।
সকালে গণশুনানিতে যুক্তি-তর্কে এসব কথা বলেন, সিপিবির সভাপতি মণ্ডলির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স ও গণসংহতি আন্দোলন সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি।
টিসিবি ভবনে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতে তিতাস, পশ্চিমাঞ্চল, বাখরাবাদ, কর্ণফুলিসহ রাষ্ট্রীয় সবগুলো কোম্পানিই এই মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
প্রস্তাবের বিপরীতে কমিশন গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেও বুধবার বাখরাবাদ কোম্পানির ৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিপরীতে ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাড়াতে সুপারিশ করে বিইআরসির কারিগরি কমিটি।
জনস্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান এ আর খান।
এ সময় মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে সেবা দেওয়ার তাগিদ দিন তিনি।