বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুধু আন্তঃনদী চুক্তি হলেই সমস্যার সমাধান হবে না, সেইসঙ্গে দরকার দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট দূর করা।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় নদীব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।
তবে শুধু বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে চুক্তি না করে নেপাল, ভুটান এবং চীনকে সঙ্গে নিয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় নদীব্যবস্থার একটি সমন্বিত চুক্তি করা হলে সেটি সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসু হবে বলে জানানো হয় বৈঠকে।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ভারতের পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক প্রণব কুমার রায় বলেন, তিস্তা নিয়ে এমন একটি চুক্তি হওয়া উচিত যা দুই দেশের মধ্যে বহমান সব নদীর পানিবন্টন সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা চুক্তির পাশাপাশি আস্থার সংকট দূর করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অববাহিকাকেন্দ্রীক পরিকল্পনা ও নদীগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দেন তারা।
আর দুই দেশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নদীকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনি।
এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় নদীর সংখ্যা ৫৪টি, এর মধ্যে শুধুমাত্র গঙ্গার পানিচুক্তি হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে তিস্তা নদীর পানিবন্টন চুক্তি।
এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রহ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির তা আটকে যায়। তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নিয়ে আগের শক্ত অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন মমতা।
মমতার ঢাকা সফরে এ চুক্তিটির বিষয়ে সুরাহা হতে পারে বলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।