আসছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট থাকছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা।
বাকিটা অনুন্নয় বাজেট। অনুন্নয় বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা পরিশোধে। বাজেট অর্থায়নে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরনের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের।
এ বাজেটে সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের মত খাতগুলো। কমতে পারে করপোরেট ট্যাক্স। বাড়তি কর আরোপ করা হতে পারে তামাকজাত পণ্যের ওপর।
অনেকটাই নিষ্প্রভ দেশের ব্যক্তিখাত। গত দুই বছর ধরে ব্যক্তিখাতের ভোগ ব্যয় প্রবৃদ্ধি ক্রমশ কমছে। চাঙ্গাভাব নেই বেসরকারি খাতেও। সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে এ ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। রপ্তানির প্রবৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির মত স্বস্তির জায়গাও আছে অর্থমন্ত্রী আবুলমাল আবদুল মুহিতের সামনে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও কাটেনি অনিশ্চয়তা। এমনই বাস্তবতায় বাড়তি উত্তাপ নিয়ে আসছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট।
অনেক আগেই আগামী জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এরজন্য প্রায় বাড়তি ২২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন।
উন্নয়ন বাজেটের রূপরেখার কাজও প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে পরিকল্পনা কমিশন। একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি, প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে বিদ্যুতে। আর একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে পদ্মা সেতুতে।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহে এনবিআরকে নিতে হচ্ছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে তাদের সামনে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে অর্থমন্ত্রণালয়। এ খাতে কমছে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ। জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে সরকারের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।