আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ৪ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করা হচ্ছে— দেশের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে বড় বাজেট। যথারীতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। তাই এ বাজেটকে ঘিরে, অর্থায়নটাও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন অর্থবছরের বাজেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা আসতে পারে, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায়।
এবার বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৩ লাখ ১০০ কোটি টাকার। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণই হবে ১ লাখ কোটি টাকার ওপরে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭% উন্নীত করা এবং মুল্যস্ফীতি ৬.২% নামিয়ে আনার কথা থাকবে বাজেট প্রস্তাবে।
এর মধ্যে আয়কর থেকেই সবচেয়ে বেশি আদায় করতে চাচ্ছে সরকার। প্রায় ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা।
এর পরেই থাকছে মুল্য সংযোজন কর, ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা এবং আমদানি-রপ্তানি ও অন্যান্য উৎস থেকে সরকারের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৪৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াতে পারে, পৌনে দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে।
বাজেট অর্থানয়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা থাকতে পারে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০% বা ৪১ হাজার কোটি টাকা বেশি।
তবে বিগত দিনের রেকর্ডে, এনবিআরের তথ্য বলছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম তিন প্রান্তিকে আদায় হয়েছে, ৯২ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের প্রকৃত তথ্য বিবেচনা করে, লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অংকের রাজস্ব আদায় এনবিআরের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সরকার কর কাঠামোর সংস্কার ও করের আওতা বাড়াতে পারলে, রাজস্ব আদায় অনেক বাড়বে।
তবে সরকারের বর্তমান কিছু পদক্ষেপ রাজস্ব আদায় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।
বাজেট অর্থায়নে এনবিআরের বাইরে বিভিন্ন ফি মিলিয়ে ৩৫ হাজার এবং বৈদেশিক অনুদান বাবদ ৭ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার।