দেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছ থেকে সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জাতীয় বাজেটে রাজস্ব আদায় করে থাকে।
যারা অর্থের যোগান দিচ্ছে তাদের বেশিরভাগই জানেন না তাদের করের টাকাই তৈরি হয় দেশের জাতীয় বাজেট। তবে এ নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট কোনো চিন্তা-ভাবনা না থাকলেও আছে আশা-প্রত্যাশা।
শ্রমজীবী মানুষগুলোর দোকান থেকে কেনা খাবারের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। যে টাকায় তৈরি হয় দেশের জাতীয় বাজেট। কিন্তু এসব মানুষের কাছে বাজেট কি আদৌ কোনো গুরুত্ব বহন করে? কিভাবে কম খরচে দুবেলা দুমুঠো খেতে পাবে এটিই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে আসা কৃষক জয়নাল নিজের ক্ষেতে মরিচ চাষ করেন। কৃষিকাজের অবসরে একটু বাড়তি আয়ের আশায় এখন ফেরি করে চা সিগারেট বিক্রি করছেন। বাজেট নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই এ কৃষকের। শুধু প্রত্যাশা চাষবাসের খরচ যেন না বাড়ে।
ঢাকা কলেজে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র পারভেজের কাছে বাজেটকে ঘিরে প্রত্যাশার কথা জানায় দেশ টিভিকে।
এই বিশাল বাজেটে যেন থাকে তার একটি চাকরির নিশ্চয়তা বলে জানান তিনি।
বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরও বাজেট নিয়ে নেই তেমন কোনো ধারনা। যারা কিছুটা জানেন তাদের প্রত্যাশা শিক্ষার মানোন্নয়নের বাজেটে যেন থাকে বিশেষ বরাদ্দ এবং দিকনির্দেশনা।
মধ্যবিত্ত এ চাকরিজীবী বাজেট নিয়ে বিস্তারিত না জানলেও সে চায় নতুন বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার সংসার খরচও যেন না বাড়ে।
আর ঊচ্চবিত্ত শ্রেণীর প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদেরকে যেন বাজেটে দেয়া হয় বিশেষ সুবিধা।
তবে এসব মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের মিল কতটুকু থাকবে সেটির প্রতিফলন দেখা যাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরেই।