এবার সরকারি নয়— বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাধ্যমেই কর্মী নেবে মালয়েশিয়া এবং এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন খাতে বছরে ৫ লাখ কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আগামী জুলাই মাসে কর্মী পাঠানোর সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার নিজ মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের তিনি কথা বলেন।
অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমাতে ৩ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালে সরকারি পর্যায়ে বা জি টু জি পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে বছরে একলাখেরও বেশি কর্মী পাঠাতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঘটা করে চুক্তি করে সরকার। তবে গত তিন বছরে মাত্র ১০০০০ কর্মী দেশটিতে যেতে পেরেছে।
জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। তবে সরকারি পদ্ধতিতে গত ৩ বছরে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি প্রায় শুণ্যে নেমে আসে। বেড়ে যায় সাগরপথে মানবপাচার। সম্প্রতি জলপথে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় মানবপাচার আর গণকবরের সন্ধান গোটা বিশ্বকে অবাক করে দেয়। এ পরিস্থিতিতে জি টু জি থেকে সরে এসে বি টু বিতে এখন বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে দুদেশ।
সরকারি প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যর্থতা স্বীকার করে— মন্ত্রী বলেন, এবার বেসরকারি পদ্ধতিতেই কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক ও এজেন্সিগুলো নিবন্ধনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে। তবে মূল তদারকির দায়িত্ব থাকছে সরকারের হাতেই।
অভিবাসন ব্যয় থাকবে আগের মতোই জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা—উল্লেখ করে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে এসব বিষয় চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে দেশটির কৃষি ও বনায়ন খাতে কর্মী নিয়োগে দেশের প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নিবন্ধন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এদের মধ্য থেকেই কর্মী পাঠানো হচ্ছে।