টানা এক দশক ধরে ৬% ঘরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে মজুরি হার। বেড়েছে রপ্তানি আয় এবং রেমিটেন্স প্রবাহ। সব মিলিয়ে বেড়েছে মানুষের মাথাপিছু আয়ও।
নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে, বিশ্ব ব্যাংকের স্বীকৃতিতে তারই প্রতিফলন হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান। শুক্রবার দেশটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তারা এ কথা বলেন।
তবে দারিদ্রের হার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে না পারলে, এ স্বীকৃতি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন তারা।
আয় বৈষম্য কমাতে না পারলে, নিম্ন মধ্য বা মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতির কোনো গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে নেই বলে মনে করেন খলীকুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘এ আয় যদি প্রত্যেকের কাছে যায়, তার মানে হচ্ছে ৮ হাজার করে পায় জনপ্রতি। এক পরিবারে যদি ৩ জন থাকে তবে ২৪ হাজার টাকা পাবে যা চলার জন্য যথেষ্ট।’
এ কারণে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে, আয় বৈষম্য কমাতে সরকারকে উদ্যোগি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দেশের রপ্তানি, রেমিটেন্স প্রবাহ এবং শিল্প-কারখানার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে কৃষি উৎপাদন। বেড়েছে বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের মুজুরিও। দেশে বর্তমানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি। মাসে ৬০০ টাকা করে বছরে যাদের মাথাপিছু আয় ৭ হাজার ২০০ টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের হিসেবে, গত এক দশকে দেশে মুজুরি হার বেড়েছে একশ শতাংশেররও বেশি। সব মিলিয়ে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।
বিশ্ব ব্যাংক এর স্বীকৃতি দিল, বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়ে। বর্তমানে দেশের জাতীয় আয় ১ হাজার ৩১৪ ডলার। সে হিসেবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকে মাসে আয় করে প্রায় গড়ে প্রায় ৯ হাজার টাকা করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।