রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং অর্থনীতির মুলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহল জনপদের বাসিন্দাদের কৃষিঋণ বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দলিল দস্তাবেজ না থাকলেও, সদ্য বিলুপ্ত হওয়া এসব ছিটবাসীর মাঝে কৃষি ঋণ বিতরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন।
নুরুল আমিন বলেন, শুধু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সুপারিশ থাকলেই, স্থানীয় এনজিওর সহযোগিতায় বাংলাদেশের এ নতুন নাগরিকদের মাঝে কৃষিঋণ বিতরণ করা সম্ভব। স্থানীয় এনজিওদের মাধ্যমে এসব এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন ক্লাস্টার করে, ঋণ বিতরণ করা যেতে পারে।
সেক্ষেত্র শুধু সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধির সুপারিশ থাকলেই হবে বলেও জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি।
তিনি আরো বলেন, এ বছর ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকেই বাংলাদেশের নতুন নাগরিকদের মাঝে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রস্তুত আছে।
এদিকে, ৬৮ বছরের পরিচয়নহীনতার অবসান হয়েছে। এদের মতো, বাংলাদেশে অন্তভুক্ত হওয়া ১১১টি বিলুপ্ত ছিটবাসীর পরিচয় এখন, বাংলাদেশের নাগরিক।
রাষ্ট্র চাইছে অন্যসব নাগরিকের মত এদেরকেও দেশের সব সুযোগ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে। এর অংশ হিসেবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যারা বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় পেলেন, তাদের মধ্যে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে।
তবে তাদেরকে অর্থনীতির মুল ধারায় নিয়ে আসতে, যেসব অবকাঠামোর দরকার তার কিছুই নাই সেখানে। মৌজা নির্ধারণ, ভূমি জরীপ কিংম্ব জাতীয় পরিচয়পত্রও নেই তাদের।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর সদিচ্ছা থাকলে, ঋণ বিতরণে এগুলো সমস্যা হবে না।