দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উপ-আঞ্চলিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আর বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ঋণ সহায়তার দ্বিতীয় কিস্তির ২০০ কোটি ডলার শিগগিরই ছাড় করার কথা জানালেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ।
শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া ইনভেষ্ট্রেড-২০১৫’ এর শেষ দিনের আলোচনায় তারা এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও কানেকটিভিটির সুবিধা যৌথভাবে কাজে লাগিয়ে দুই দেশকে এশিয়ার প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেক্টিভিটির দিক থেকে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য—উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, সে অবস্থায় নিয়ে যেতে আরো সময়ের প্রয়োজন।
মুহিত বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক শক্তিশালী করতে এরইমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বানিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের জনগনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। এ জন্য উপ-আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে হবে।’
এ সময় দেশে অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভূটানের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দেন অর্থমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে এ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করে ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ সরণ বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির দুই বিলিয়ন ডলার দ্রুত ছাড় করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘স্থল সীমান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। আশা করছি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও দ্রত হবে। বাংলাদেশকে ভারত যেসব প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি করেছে তা ক্রমান্বয়ে পূরণ হবে। ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য প্রযুক্তি খাতেও এদেশের বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে ভারত।’