বাংলাদেশকে কেন যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বা জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়া হলো না— স্বচ্ছভাবে তার ব্যাখ্যা দিতে দেশটির প্রতি আহবান জানিয়েছেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। বুধবার সকালে তৈরি পোশাক নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি ও এফইএস আয়োজিত সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রেহমান সোবহানের দাবি করেন, যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা দিয়েছে— তাদের অনেকের চেয়েই বাংলাদেশের কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের প্রদেয় সুযোগ সুবিধা উন্নত। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে হারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের মুল্য দিচ্ছেন তা দিয়ে শতভাগ কর্মবান্ধব করা সম্ভব না বলেও জানান তিনি।
পোশাক খাত নিয়ে এ সম্মেলনে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা নবায়ন না করার প্রসঙ্গটিও। এ সময় রেহমান সোহান আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব ইস্যুতে বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করেছে, সেসব ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থা জিএসপি পাওয়া অনেক দেশের চেয়েই ভাল।
সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, ক্রেতারা কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমমান উন্নয়নের যেসব শর্ত দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সেক্ষেত্র আংশিক সহায়তা পাওয়া গেলেও ক্রেতারা সুবিধা নিচ্ছেন অন্যদিকে। কমপ্লায়ান্সকে ইস্যু করে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি রপ্তানিকারদের উপর মুল্য কমাতে চাপ সৃষ্টি করছেন।
এর প্রেক্ষিতে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গবেষণায়ও ব্যবসায়ীদের এ অভিযোগের সত্যতা মিলছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর এ আচরণ কারখানাকে শতভাগ কর্মবান্ধব করার পথে অন্তরায় বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিকভাবে না নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন অর্থনীতিবীদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।