চাহিদা পূরণ করে দেশিয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে দেশে এখন পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকার কথা আর সে হিসেবে দামও থাকার কথা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। তবে বাস্তবে ঘটছে উল্টো— শুধু ভারতের বাজারে দাম বেড়েছে, এমন অজুহাতেই দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ।
সরকারের হিসেবে, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাব, বাংলাদেশের বাজারের ওপর পড়ার কোনো কারণ নেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে।
দেশে সারাবছরে পেঁয়াজের চাহিদা কমবেশি ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চলতি বছরে দেশেই উৎপাদিত হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। বাকি ১ লাখ ৭০ হাজার টন ঘাটতির বিপরীতে এরই মধ্যে আমদানি হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টন।
সে হিসেবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় দেশে পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকার কথা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি'র এসব তথ্যানুযায়ী দেশে এখন পেঁয়াজের দাম কমার কথা। তবে উল্টো বাড়ছে। প্রশ্ন, কেন বাড়ছে?
দেশে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ যদি উদ্বৃত্বই থাকে তাহলে ভারতে দাম বাড়ার প্রভাব এখানে এতটা পড়ার কোন কারণ নেই। তবে কি এখান থেকে পেঁয়াজ চলে যাচ্ছে অন্য কোথাও? তাও মানছে না টিসিবি!
সরকারি এসব হিসেবের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় উৎপাদন এবং বাৎসরিক চাহিদার যে হিসেব সরকার দিচ্ছে, তাতে যথেষ্ট গড়মিল আছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে সুখবর হলো এরই মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চীন থেকে প্রচুর পেঁয়াজের আমদানির ফলে, এক সপ্তাহর মধ্যে দাম ৫০ টাকায় নেমে আসবে বলে আশা করছে টিসিবি।
দাম স্থিতিশীল রাখতেই আগামী মাস থেকে টিসিবি খোলা বাজারে পেঁয়াজও বিক্রি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।