সহসাই কাটছে না শাক-সবজির সংকট—বৃষ্টি আর বন্যার পানি না কমলে সরবরাহ বাড়বে না বলে জানিয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা।
সরবরাহ সংকটের অজুহাতে শাক-সবজির দাম কয়েকগুণ বাড়াকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন এফবিসিসিআইয়ের কমোডিটি সেলের পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন ও কাঁচা সবজি আমদানিকারক মো. হুমায়ন কবির।
এ জন্য তারা দুষছেন সরকারি অব্যবস্থাপনাকে। রাজধানীতে সরাসরি কৃষককে শাক-সবজি বিক্রির সুযোগ করে দিতে পারলে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলেও মনে করছেন তারা।
তবে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি হওয়ায় কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম। কিছুদিনের মধ্যে দাম আরও কমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচের উপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিও তাদের।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় শাকসবজির এ বাজারের চিত্র এখন অনেকটাই ভিন্ন। স্বাভাবিকভাবে এখানে যেমন শাক-সবজিতে সয়লাব থাকতো এখন তেমনটা নেই। পেঁপে, কাঁচা কলা, বাধাকপি আর মিষ্টিকুমরার মত গুটিকয় সবজি দিয়েই রাজধানীবাসীকে সবজির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।
হঠাৎ করে কেন এই সরবরাহ সংকট? পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের যেসব জায়গা থেকে সবজি আসতো সেসব জায়গায় অতিবৃষ্টি আর বন্যায় ফসলের ক্ষেত সব নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে সবজির সরবরাহ কমে এসেছে।
এ সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সবজির দাম লাগাম ছাড়া। ২০ টাকা কেজির সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। দামের এ আস্ফালনকে অযৌক্তিক মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
তার মতে, বাজার অব্যবস্থাপনার কারণে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌড়াত্ব বেড়ে গেছে। যে কারণে যে কোনো অজুহাতেই হুটহাট সবজির দাম বাড়ছে।
তবে ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের সংকট। ভারত থেকে প্রচুর মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শুধু রোববার রাতেই এসেছে প্রায় ২০০ টন। ফলে এর দামও কমতে শুরু করেছে। শুক্রবারের ২৩০ টাকা কেজির কাচা মরিচ সোমবার পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকারও কমে।
এ সংকটের মধ্যেও কাঁচা মরিচ আমদানিতে কেজি প্রতি সরকার ২০ টাকা করে শুল্ক আরোপ করেছে। এ শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে দাম আরও ২০ টাকা কমতো বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।