গবাদি পশুর হাড়-গোড়, খুড়, শিং, লেজ কিংম্বা রক্ত উচ্ছিষ্ট হিসেবে যার স্থান হয় আবর্জনার স্তুপে। কিন্তু কজনই বা জানেন গবাদি পশুর এসব অঙ্গ-প্রতঙ্গের সঙ্গে কোটি কোটি ডলার চলে যাচ্ছে ডাস্টবিনে? হাজারীবাগের কিছু উদ্যোমী মানুষ ময়লার স্তুপ থেকে গবাদি পশুর এসব উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে বিদেশে রপ্তানি করছেন।
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশকেও রক্ষা করছেন দূষণের হাত থেকে। পশুর বর্জ্য রপ্তানিতে সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেলে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হতো বলে মনে করছেন এর রপ্তানিকারকেরা।
গবাদি পশুর মাংস আর চামড়ার কদর সবার কাছেই কিন্তু এছাড়া বাকি সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ফেলে দেয়া হয় উচ্ছিষ্ট হিসেবে।
অথচ এখানে যা উচ্ছিষ্ট সেগুলোই বিদেশিরা কিনে নিচ্ছেন উৎকৃষ্ট হিসেবে। এই যেমন পশুর পাকস্থলি একটু ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দিলেই এর দাম হয়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারে পিত্ত থলিরও রয়েছে বিশাল চাহিদা। এদিয়ে তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধ।
চীন, কোরিয়া আর থাইল্যান্ডের মত দেশে উপাদেয় খাবার সুপ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় গবাদী পশুর লিঙ্গ। বাংলাদেশ থেকে প্রতিটি পশু লিঙ্গ তারা কিনছে ৪ থেকে ৬ ডলারে।
এর পাশাপাশি হাড়, খুড়, দাঁত, শিং আর রক্ত দিয়ে তৈরি হয় ক্যাপসুলের কভার, জেলোটিন, ক্যামেরার ফিল্ম, সিরিস কাগজ আর পশুপাখির খাবার।
এবার সারা দেশে ১ কোটি পশু কোরবানি হলে প্রতিটি গড়ে ১০ ডলার হিসেবে পাকস্থলি থেকেই অর্জিত হতে পারে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা ৮ হাজার কোটি টাকা।
গবাদি পশুর লিঙ্গ থেকে রপ্তানি আয় হতে পারে আরও পাঁচ কোটি ডলার। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকেও আসতে পারে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এসব চলে যাচ্ছে ডাস্টবিনে।
তবে আশার কথা পশুবর্জ্যের এ সম্ভাবনা এখন সরকারের নজরেও এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঠিকমত সংরক্ষণ এবং জনসচেতনা তৈরি করতে পারলে চামড়া শিল্পের মত শুধু পশুবর্জ্য দিয়েই আরেকটি শিল্প দাঁড়িয়ে যেতে পারে।