ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারসিপ বা টিপিপি চুক্তির ফলে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ১১টি দেশে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে প্রতিযোগী ভিয়েতনাম। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ চুক্তির ফলে ভিয়েতনামের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাংলাদেশের বাজার হারানোর আশংকা করছেন অর্থনীতিবীদরা।
কিন্তু বিশেজ্ঞরা বলছেন, এতে বাংলাদেশের বাজার হারানোর আশংকা নেই। তবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার দেশটিভিকে দেয়া সাক্ষাতে তারা এ কথা বলেন।
তবে এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে করে ভিয়েতনামের কাছে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ মার খাবে। বাংলাদেশের প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের বাজারে ভিয়েতনাম ভাগ বসাতে পারে বলে আশংকা করছেন তারা।
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সটিটিউটের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান সে আশংকা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতমানের বাজার বাড়লে, বাংলাদেশের বাজার কমবে না। সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে চীন, মেক্সিকো ও তুরস্কের উপর।
এদিকে, অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কিছুটা হলেও বাড়বে। তাতে আপাতত কোন শংকা না থাকলেও, দুশ্চিন্তা আছে ভবিষ্যত নিয়ে।
তবে ভবিষ্যৎ মোকাবেলায় তাদের পরামর্শ একই রকম- অভ্যন্তরীন বাধা দূর করা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-ডব্লিউটিওর আওতায়, বাংলাদেশের যেসব বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার কথা, সেসব আদায়ে সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শও দেন তারা।
টিপিপি চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে চুক্তিতে সই করা ১২টি দেশ। এ তালিকায় রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, মেক্সিকো, পেরু, চিল; নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান ভিয়েতমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই।
চুক্তিতে ভিয়েতমানের অন্তর্ভুক্তি কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে। কারণ, টিপিপি কার্যকর হলে, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে কোন শুল্ক দিতে হবে না। কিন্তু বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ঠিকই ১৬% শুল্ক গুণতে হবে।