প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে ইউরোপের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কি কি সুযোগ আছে এবং এ সুযোগ কাজে লাগাতে কি কি করণীয় তা নিয়েই "টুওয়ার্ডস নিউ সোর্স অব কম্পিটিটিভনেস ইন বাংলাদেশ" নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
নতুন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্রগতির ধারা ত্বরান্বিত করতে হলে নতুন বাজার, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, মালিক-শ্রমিক- ভোক্তার কল্যাণ ও পারস্পারিক সুসম্পর্ক এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
নতুন বাজার তৈরিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ অর্থনীতিবীদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া।
প্রতিবেদনে কথা ধরে তিনি বলেন, চীন আস্তে আস্তে তৈরি পোশাকের বাজার ছেড়ে দিচ্ছে— যা বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে আর পাশাপাশি ভারতেও বাজার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
এ সুযোগ নিতে অবকাঠামো আর বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চীনের ছেড়ে দেয়া তৈরি পোশাকের ২০% বাজারও যদি বাংলাদেশ দখল করতে পারে তাহলে রপ্তানি দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫৪ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
আর বাংলাদেশ সে লক্ষ্যেই হাঁটছে—এ কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে এখন সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হাতে নেয়া হয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মতো প্রকল্পও—এ কথা জানিয়ে মন্ত্রী, তবে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের মনোভাবকে এখনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই উল্লেখ করেন।
এ বিষয়টিকে আরো বেগবান করতে আন্তমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পরামর্শক কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও মন্ত্রী জানান।