টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে—জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রকৃচি ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাতিল করেছিলাম—এখন সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি রিজিড না, সবকিছুই আলোচনা করে সমাধান করার সুযোগ আছে।’
বিভিন্ন ক্যাডারে পদ সংখ্যার সমন্বয় না থাকায় সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হচ্ছে—এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা ক্যাডারে প্রথম ৭ গ্রেডে ২২ হাজার পোস্ট আছে এটা ফেয়ার না।
তা হলে কি অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসেছেন—এ প্রশ্নে উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সময়ই আমরা অনমনীয় অবস্থানে ছিলাম না।’
বৈঠকে প্রকৃচির আহ্বায়ক ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নতুন বেতন কাঠামো থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেটা সরকারের জন্য কোনো ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বঞ্চিত করার একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিম আরো বলেন, ‘বেতনও বাড়িয়ে দিলেন— কিন্তু কেউ খুশি হলো না। প্রতি বছর ৫% ইনক্রিমেন্ট বাড়ানোর মাধ্যমে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিলের ক্ষতি পোষানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা সরকারি চাকরিজীবীদের মনে হতাশা-ধোঁয়াশা ও কুয়াশা সৃষ্টি করবে।’
বৈঠক উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা বাড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষমতা কমানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিষয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রকৃচি (প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক) কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি, বিসিএস সমন্বয় কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার পর সরকারি কর্মচারীরা তা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল না রেখে মূল বেতনের শতকরা হারে ইনক্রিমেন্ট দেয়ার কথা বলা হয়।