দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় সফররত সংস্থাটির মিশন প্রধান রডরিগো কুবেরো সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ও সার্বিক অর্থনীতি পর্যালোচনার চিত্র তুলে ধরেন রডরিগো কুবেরো বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘খেলিপি ঋণের পরিমাণ কমাতে হলে, ব্যাংকগুলোতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে নজরদারি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বোর্ডের দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। যদিও সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। আশা করছি আগামী অর্থবছরে এর পরিমাণ অনেক কমে আসবে।’
এছাড়া ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দেন ঢাকায় সফররত সংস্থাটির মিশন প্রধান রডরিগো কুবেরো।
সংবাদ সম্মেলনে রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্ব সংস্থাটি বলছে, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে রাজস্ব আইন কার্যকর জরুরি।
২০১৬ সালে আইনটি কার্যকরের বিষয়ে সরকারের প্রতি তাগিদ দিয়ে রডরিগো কুবেরো বলেন, এ আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি গত বছরের সাড়ে ৬% কাছাকাছি থাকবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে কম রাজস্ব আদায় হয় বাংলাদেশে। জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্যই আইন কার্যকর জরুরি। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি।’
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় গেল অর্থবছরে অবকাঠামো, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী উন্নয়নের মতো খাতগুলোতে পিছিয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই ঋণ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছে আইএমএফ।