জামাত নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন আর্থিক, সেবা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। জামাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের দাবির পরিপ্রক্ষিতে এ বিষয়ে জামাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খোঁজ-খবর নিতে রোববার অর্থমন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আর এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস এবং ব্যবহার খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরেকটি চিঠি দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্য ছিল তার উপর নির্ভর করে এই চিঠিগুলো যাচ্ছে নজরদারি করার জন্য। এটাকে বলে ফাইন্ডিংস।’
চিঠি পাওয়ার পর এরইমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলেজেন্সি ইউনিট-বিএফআইইউ।
আর্থিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ব্যবসা ও সেবামুলক প্রতিষ্ঠানে জামাতের বিনিয়োগ রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে নানারকম সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংককের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে সেই চিঠি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সেই চিঠি এসেছে। ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলেজেন্সি ইউনিট- বিএফআইইউ এখানে কাজ করছে। গভর্নর সাহেব বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।’
প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে সরকার— এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামাতের সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস্ ও ব্যয় খতিয়ে দেখতে অর্থমন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেখানে বলা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা ও সেবামুলক প্রতিষ্ঠান জামাতের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান অর্থের উৎস খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জঙ্গি তৎপরতা ও জামাতের কর্মকাণ্ডে কোন রকম অর্থায়ন করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে। এর ওপর নির্ভর করেই সরকার জামাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।