দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায়ে থাকলে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে ৭% বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৬.১% বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়বে ১৪.৮% বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়াসে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন ২০১৬) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর।
গভর্নর জানান, নতুন মুদ্রানীতিতে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
এছাড়া সুদের হার দশমিক ৫০% কমিয়ে রেপোতে ৬.৭৫ এবং রিভার্স রেপোতে ৪ .৭৫ % নির্ধারণ করা হয়েছে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতেই এ সিদ্ধান্ত বলে জানান গভর্নর।
আতিউর রহমান বলেন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রপ্তানি পণ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাতে আরও উন্নয়ন ঘটাতে মুদ্রানীতিতে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
রপ্তানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোকেও প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সময় এসেছে দেশের অর্থনীতিতে আরেকটি গ্রোথ ইঞ্জিন যোগ করার— এই অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশের গ্রোথ ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে।
আগের কিছু কথা:
নীতি নির্ধারণী সুদের হার (পলিসি রেট) কমাতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদহার .৫০% কমিয়ে রেপোতে ৬.৭৫ এবং রিভার্স রেপোতে ৪ .৭৫ % নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে ব্যাংকিং খাতে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তের বিস্তারিত দিক তুলে ধরবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুদের হার কমানো হয়েছিল।
মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলারের তহবিল এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে রপ্তানি উপযোগী গার্মেন্ট ও চামড়া শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে ২০ কোটি ডলারের ইডিএফ তহবিলের ঘোষণাও থাকবে বলে জানা গেছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছুদিন ধরে সুদহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি নীতিনির্ধারণী সুদহার কমানোর পরামর্শ দেয়। অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলোর সুদহার কমতির দিকে রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ঋণের গড় সুদহার নেমে এসেছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশে। একবছর আগে যা ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ব্যবসায়ীরা চান এ সুদহার আরও কমে এক অঙ্কে নেমে আসুক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্প সময়ের জন্য নেয়া ধারকে 'রেপো' বলে। আর ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় 'রিভার্স রেপো'। রেপোতে বর্তমানে সুদহার নির্ধারিত আছে সাত দশমিক ২৫ শতাংশ। আর রিভার্স রেপোতে পাঁচ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মুদ্রানীতিতে আগামী ছয় মাসের ঋণ জোগান, মুদ্রা সরবরাহ, প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়।
জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। বেসরকারি খাতের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত ৫০ কোটি ডলারের দুটি তহবিল থেকে ঋণ নেয়ার সুযোগের ঘোষণা থাকছে।
গত জুলাই মাসে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। জুন নাগাদ তা ১৫ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে নভেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি তথা ছয় দশমিক ৮০ থেকে ছয় দশমিক ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সাত শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সরকার নির্ধারিত ৬ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হবে। যদিও আগের মুদ্রানীতিতে অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ছয় দশমিক চার শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত তা ছয় দশমিক ১০ শতাংশে সীমিত থাকায় অর্থবছর শেষে সরকারের লক্ষ্য অর্জন হবে বলে এবারের মুদ্রানীতিতে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রা জোগানের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আগামী জুন নাগাদ ১৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল। আর জুনে তা ১৫ দশমিক ছয় শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে গত নভেম্বর পর্যন্ত মুদ্রা সরবরাহের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।