সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গঠিত অষ্টম বেতন কাঠামো তৈরিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দোষ রয়েছে— স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এ দোষ শোধরানো হচ্ছে তবে বেতন কাঠামোতে কোনো সংশোধনী আনা হবে না।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৃচি-বিসিএস ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্দোলনকারীদের দাবি প্রস্তাব আকারে আসলে পে-স্কেলে তা সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মুহিত বলেন, পে-স্কেল নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের কোন ভিত্তি নেই ও প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটিও না বুঝেই আন্দোলন করছে।
এদিকে, চীনের নেতৃত্বাধীন এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক, বিদ্যুৎ উৎপাদন, রেল, আইসিটিসহ বেশ কয়েকটি খাতে ঋণ সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ২ শতাংশেরও কম সুদে ৮ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণ পাবে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি না থাকায় বাংলাদেশ গতবছর ব্যাংকটির সদস্য হতে পারেনি বলে সামান্য আক্ষেপও করেন তিনি।
১১ জানুয়ারি থেকে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসনের প্রকৃচি ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি এবং প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তাদের আবার কাজে যোগদানের দিনটিতেই দোষ স্বীকার করে ভুল স্বীকার করলেন তিনি।
অথচ ১৫ ডিসেম্বর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অষ্টম বেতন স্কেল কার্যকরের প্রজ্ঞাপণ ঘোষণার পর বেতন বৈষম্য ও মর্যাদার অবমাননা হওয়ায় শিক্ষক ও প্রকৃচি কর্মকর্তারা আন্দোলনে গেলেও অর্থমন্ত্রী বারবারই বলছিলেন বেতন স্কেলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এখন তিনি বলছেন কিভাবে তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাব নতুন বেতন কাঠামোয় সমন্বয় হবে সে কথা।
তবে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আন্দোলন প্রসঙ্গে নিজের ক্ষোভের কথাও ভুলে যাননি অর্থমন্ত্রী।