বাংলাদেশের কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত—বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা করে এ অনুরোধ জানান।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন এ কথা বলেন তিনি।
ভারতে পাট রপ্তানিতে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা উল্লেখ করে, আপাতত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এ পরিস্থিতিতে দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন নতুন নিয়োগ পাওয়া ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
ভারতে পাট রপ্তানি পুনরায় চালু করতে সরকারের সহায়তা চান তিনি।
প্রতিবেশি দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাণিজ্যসহ নানা ধরনের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এর মধ্যে ভারতের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে— একই সঙ্গে সীমান্ত হাটের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মোট চারটি হাট নিয়মিত বসছে— চারটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আর দুটি রয়েছে চালু হওয়ার অপেক্ষায়।
প্রসঙ্গত: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতি বছর ৬ থেকে ৭ লাখ কাঁচা পাট ভারতে রপ্তানি করে থাকে। যা মোট পাট রপ্তানির ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, ভারতের পাট ও পাটজাত পণ্য যা আমদানি হয়, তার বড় অংশই যায় বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে পাট আমদানির ওপর ভারতীয় জুট কমিশন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় দু'দেশেই এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এরই মধ্যে দেশীয় বাজারে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়ায় কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ।