বৈদেশিক সহায়তার অর্থ যথাযথ ব্যবহারে সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বৈদেশিক সহায়তার অর্থ যথাযথ ব্যবহারে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রকল্পে সরাসরি বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাস্তবায়ন পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপির আওতায় কিছু প্রকল্পে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা যেতে পারে।
বাংলাদেশকে সাহায্য করতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা নিয়ে বসে আছেন দাতারা। প্রায় সৌয়া লাখ কোটি টাকার অর্থ অলস পড়ে আছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এর কোনোটারই সদ্ব্যবহার করতে পারছে না সরকার। সরকারের এ অদক্ষতায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, ধীরগতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব এবং ঋণের নানাবিধ শর্তের কারণে দাতাদের কাছ থেকে অর্থ ছাড় করানো সম্ভব হয়না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার দাবি তাদের।
তবে এ সুযোগ খুব সীমিত বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ। কারণ সহায়তার বিষয়ে দাতারা সরাসরি সরকারের সঙ্গেই দরকষাকষি করে থাকেন।
অবশ্য কিছু কিছু প্রকল্পে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বেসরকারি খাতকে সীমিত পর্যায়ে যুক্ত করা যেতে পারে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দাতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ৯ হাজার ২১৮ কোটি ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পায়। এর মধ্যে ২৯% ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয় সরকার।
আর অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাতিল হয়েছে ৮০৩ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা।