এটিএম বুথে জালিয়াতির মাধ্যমে খোয়া যাওয়া অর্থ গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ব্যাংকটি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য থেকে পাঁচ জন গ্রাহকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টাকা তুলে দেয়া হয়।
ইস্টার্ন ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, তাদের ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত অন্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের টাকা তাদের ব্যাংকে হিসেবে জমা দেয়া হয়েছে।
এটিএম বুথে বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় ইস্টার্ন ব্যাংকের মোট ২৮ জন গ্রাহকের ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়।
ক্ষতিপূরণের টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পর এটিএম বুথের নিরাপত্তা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে— জালিয়াতির ঘটনা জানাজানির পরপরই গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: ৬ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীতে ইস্টার্ন, সিটি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চার বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে কার্ডের তথ্য চুরি ও পরবর্তী সময়ে কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকদের অজান্তে টাকা তুলে নেয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। এ ঘটনায় ইউসিবি গত শুক্রবার বনানী থানায় ও সিটি ব্যাংক গত সোমবার পল্লবী থানায় আলাদা দুটি মামলা করে। ইউসিবির মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ জালিয়াতির ঘটনায় চারটি ব্যাংকের ৪০ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের হিসাব থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। এদের মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের ২৮ জন, সিটি ব্যাংকের ৪ জন, ইউসিবির ৭ জন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ জন রয়েছেন।
গতকাল কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় চার-পাঁচজন বিদেশিকে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ—এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরায় পাওয়া ছবি দেখে তাদের শনাক্তের কাজ করা হচ্ছে বলে জানান মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
তিনি আরো বলেন, শনাক্ত হওয়া বিদেশিরা পূর্ব ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতে পারেন— নিশ্চিত হওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।