যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ বিশ্বের ১০টির মতো দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। এর বড় অংশই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে, জালিয়াতরা প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে প্রবেশ করে। তারপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোপন কোড দিয়ে, ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার পে-মেন্ট আদেশ দেয়।
তাদের পেমেন্ট আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল রিজার্ভ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে কয়েকটি ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করে।
পরে সেখান থেকে ফিলিপাইন এবং হংকংয়ের কিছু ক্যাসিনো ব্যবসায়ী এ অর্থ উত্তোলন করে। আর ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে একটি এনজির নতুন অ্যাকাউন্টে।
তবে এ লেনদেন নিয়ে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হওয়ায়, জালিয়াতরা এ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তলোন করতে পরেনি।
জানা গেছে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক আন্তঃব্যাংক অর্থ আদান-প্রদানকারী ব্যবস্থা সুইফটের সংকেত লিপি ব্যবহার করে ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পে-মেন্ট আদেশ দেয় জালিয়াতরা।
এ আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল রিজার্ভ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন এবং শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করে। পরে রিজাল ব্যাংক থেকে সেই অর্থ উঠিয়ে নেয় কিছু ক্যাসিনো ব্যবসায়ী।
আর বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যে এ অর্থের আদান প্রদান হয়, আনলাইনে গোপনীয় কিছু কোড ব্যবহার করে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের যে ২৮ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে—তা রক্ষিত রয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ রক্ষিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে।
নগদ অর্থ, ট্রেজারি বিল এবং স্বর্ণ এ ৩ ফরম্যাটে সেখানে বাংলাদেশের রিজার্ভ রক্ষিত রয়েছে।