বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে— উল্লেখ করে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বলেন, চুরি যাওয়া টাকার পুরোটাই ফেরত পাওয়া যাবে। সোমবার ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছে ফিলিপাইনের মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কাউন্সিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায়, তদন্ত করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে আইটি বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স সিস্টেমের সঙ্গে কাজ করছে সিলিকন ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই।
যেসব আইডি থেকে পেমেন্টের নির্দেশনা পাঠানো হতে পারে, এমন ১২টি কমপিউটারের হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করছে তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার এরইমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফিলিপাইনে যাওয়া বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৬৮ হাজার। বাকি অর্থও উদ্ধার করা যাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
এদিকে, এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ফিলিপাইনও। দেশটির সিনেটে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার এক শুনানির আয়োজন করেছে।
শুনানিতে রিজাল ব্যাংক ম্যাকাতি শাখার ব্যবস্থাপক মাইয়া সান্তোস দিগুইতি, অ্যাকাউন্ট হোল্ডার উইলিয়াম গোসহ সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে।
চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে, ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গিয়েছে ফিলিপাইনের ৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ রিজাল ব্যাংকের ৬টি অ্যাকাউন্ট জব্দ করার পর, অ্যাকাউন্টগুলোতে তখনো ৬৮ হাজার ডলার ছিল।
বাকি ৮ কোটি ৯ লাখ ৩২ হাজার ডলার কোথায় কিভাবে আছে, এখনও তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা-ফিলিপাইন এ্যামিউজমেন্ট গেমিং করপোরেশন জানিয়েছে, ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার একটি মানি এক্সচেঞ্জ থেকে পেসোতে রূপান্তর হয়ে, কয়েকটি ক্যাসিনোতে গেছে। যা পরবর্তীতে মিশে গেছে ফিলিপাইনের আর্থিক ব্যবস্থায়।