রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
এর আগে সকালে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, অর্থ লোপাটের বিষয়টি দেশের স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে একটু পরে জানিয়েছেন তিনি।
আগে জানাজানি হয়ে গেলে আরো সাইবার অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা ছিলো জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এর আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী আবুল আবদুল মুহিত। সোমবার ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
পরে মঙ্গলবার সকালে নিজ বাস ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তিনি পদত্যাগে প্রস্তুত। তার পদত্যাগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালো হলে তিনি সেটাই করবো।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনায় সব সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাটের ঘটনা ঘটে। ফিলিপিন্সের ডেইলি ইনকোয়ারে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অর্থ লোপাটের খবর এলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা ঝড় ওঠে। ঘটনা তদন্তে জানানো হয়, সুইফট ম্যাসেজিং সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই অর্থ ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে সরিয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের দশম গভর্নর হিসেবে চার বছরের জন্য দায়িত্ব নেন ড. আতিউর। আর তাকে আরও এক মেয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৬ সালের ২ আগস্ট তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।