বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ কিভাবে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে চলে গেল তার জট ধীরে ধীরে খুলছে। মঙ্গলবার সিনেট কমিটির শুনানিতে রেমিটেন্স কোম্পানি ‘ফিলরেম’এর প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন তারা কিভাবে রিজাল ব্যাংকের ৪টি অ্যাকাউন্ট থেকে আসা অর্থ বিতরণ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন-আরসিবিসি থেকে রেমিটেন্স কোম্পানি ফিরলেম সার্ভিস করপোরেশনে আসে।
ফিলরেম রেমিটেন্স কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সালুদ বাতিস্তা সিনেট কমিটির শুনানিতে বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৫ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসি’র জুপিটার শাখার সংশ্লিষ্ট ৪টি একাউন্টের একটি থেকে পাঠানো হয়। এ একাউন্ট এনরিকো তিওডোরো ভাসকুইজের নামে খোলা হয়।
এ ১৫ মিলিয়ন বাদে ৪ অ্যাকাউন্টের সব অর্থ উইলিয়াম গোর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। অবশ্য উইলিয়াম গো শুনানিতে দাবি করেছেন- তার নামে খোলা অ্যাকাউন্ট ভুয়া।
শুনানিতে তিনি আরো বলেন, ৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, ৫ ফেব্রুয়ারি আরসিবিসি থেকে পাঁচ লাখ ডলার এবং ১৪ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি কিস্তি, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৫.২ মিলিয়ন ডলারের একটি এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ১৭.৯ মিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি ফিলরেমে আসে।
ফিলরেম তখন ২১ মিলিয়ন ডলার ইস্টার্ন হাওয়াই লেইসার কোম্পানিকে এবং ২৯ মিলিয়ন ডলার ব্লুমবেরি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে বলেও জানান বাতিস্তা।
শুনানিতে বাতিস্তাকে এসব অর্থ স্থানান্তর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলে তারা এ নিয়ে সন্দেহমূলক অর্থ স্থানান্তরের মামলা করেছেন, যার অনুসন্ধান চলছে।
এদিকে, এখন পর্যন্ত ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ কোথায় গেছে তার খবর পাওয়া গেলেও বাকী ৩০ মিলিয়ন ডলার কোথায় রয়েছে তার খোজ মেলেনি।