বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনে সিনেট কমিটির নির্বাহী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে আগামীকাল- বৃহস্পতিবার।
ওই শুনানিতে সবপক্ষই মুখ খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে— এরইমধ্যে শুনানিতে অংশ নেয়া রিজাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, ব্রাঞ্চ ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা নানা বিধিবিধানের যুক্তি দেখিয়ে এই অর্থ জালিয়াতির ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার শুনানিতে অংশ নেন ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জন গোমেজ। নির্বাহী শুনানিতেও উপস্থিত থাকতে চাইছেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসি থেকে রেমিটেন্স কোম্পানি ফিরলেম সার্ভিস করপোরেশনে আসে।
মঙ্গলবার ফিলরেম রেমিটেন্স কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সালুদ বাতিস্তা সিনেট কমিটির শুনানিতে জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৫ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসির জুপিটার শাখার সংশ্লিষ্ট ৪টি একাউন্টের একটি থেকে পাঠানো হয়। এ অ্যাকাউন্ট এনরিকো তিওডোরো ভাসকুইজের নামে খোলা হয়।
শুনানিতে তিনি বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি আরসিবিসি থেকে পাঁচ লাখ ডলার এবং ১৪ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি কিস্তি, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের একটি এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ১৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি কিস্তি ফিলরেমে আসে। ফিলরেম তখন ২১ মিলিয়ন ডলার ইস্টার্ন হাওয়াই লেইসার কোম্পানিকে এবং ২৯ মিলিয়ন ডলার ব্লুমবেরি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে।
শুনানিতে বাতিস্তাকে এসব অর্থ স্থানান্তর নিয়ে আবারো প্রশ্ন করা হলে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
ফিলিপাইন মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ-এএমএলসির কর্মকর্তারা শুনানিতে হুলিয়া বাকায়-আবাদ সিনেটরকে জানায়, চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদেরকে আনুরোধ জানানো হয়।
পরে ৪টি অ্যাকাউন্টের সব অর্থ উইলিয়াম গোর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। গোর অ্যাকাউন্টটি এ বছর ১ ফেব্রুয়ারিতে খোলা হয় বলে জানান এএলএমসি। তবে উইলিয়াম গো শুনানিতে দাবি করেছেন- তার নামে খোলা অ্যাকাউন্টটি ভুয়া।