অর্থ চুরির পুরো ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বের করাই প্রথম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ফজলে কবির।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রিজার্ভ চুরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকট সমাধানেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছন বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নতুন গভর্নর।
ফজলে কবির বলেন, সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে আস্থা রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, এ দায়িত্ব প্রতিপালন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
গভর্নর হিসেবে প্রথম মিশন কি হবে?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে, ধরে ধীরে রিপোর্টে আসবে। ইতোমধ্যে যে বিপর্যয় হয়ে গেছে, সেজন্য কোনো ড্যামেজ রিপেয়ার করার দরকার আছে কি-না... এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয় কখনো, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সবাই সচেষ্ট থাকব।
অর্থ চুরির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কারো সঙ্গে কথা হয়নি বলেও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর।
পরে ফজলে কবির বিমানবন্দর থেকে সোজা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের যান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা তখন সেখানেই ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ ‘হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে’লোপাট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখায় চাপের মধ্যে মঙ্গলবার গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান।
ওইদিনই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নতুন গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরের নাম ঘোষণা করেন। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার চার বছরের জন্য চুক্তিতে তার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব নতুন গভর্নরকে দেয়ার ইংগিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সিস্টেমস রিকোয়ার সিরিয়াস রিফর্মস। ইট ইজ নট ইন এ ভেরি হেলদি কন্ডিশন। দ্যাট ইজ ম্যাই অ্যাসেসমেন্ট দ্যাট কনডিশন ইজ নট দ্যাট হেলদি।
এছাড়া সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোথায় কোথায় সংস্কার প্রয়োজন তা খতিয়ে দেখবে বলে জানান মুহিত।