যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সরকার একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ইউনুসুর রহমানকে সাত সদস্যের টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়েছে।
সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএফআইইউ টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে টাস্কফোর্স বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত অবস্থা পর্যালোচনা করবে। যেসব দেশে চুরির অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চাইবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে। অর্থ ফেরত আনার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনে এসব সংস্থার সহায়তা নেবে। সময়ে সময়ে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বা পরামর্শ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
এর আগে গত ১৫ মার্চ রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় যা এখনো তদন্তের প্রতিবেদন দেয়নি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট (অর্থ লেনদেনের বার্তা প্রেরণ পদ্ধতি) সংযুক্ত সার্ভারে ঢুকে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে (এফআরবি) বেশ কিছু পরিশোধ নির্দেশনা দেয়। এ থেকে পাঁচটি নির্দেশনা কার্যকর করে এফআরবি। চার ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের অনুকূলে চারটি নির্দেশনা যায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে, যার সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। একটি অর্ডারের ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার প্যান এশিয়া ব্যাংকে একটি এনজিওর অ্যাকাউন্টে পরিশোধের নির্দেশনা ছিল। এনজিওর নামের বানান ভুল থাকায় এর পরিশোধ আটকে দেয়া সম্ভব হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগে বাধ্য হন।
ফিলিপাইনের আরসিবিসিতে যাওয়া অর্থ ব্যাংক থেকে বের হয়ে বড় অংশ ক্যাসিনোতে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত হয়েছে। সেদেশে এ ঘটনার তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার সিনেট কমিটির পঞ্চম শুনানি হয়েছে। কিম অং নামে একজন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী তার কাছে যাওয়া অন্তত দেড় কোটি ডলার ফেরত দিতে চেয়েছেন। এর মধ্যে ৫৪ লাখ ডলার ইতোমধ্যে ফেরত দিয়েছেন।