অপর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত এবং কিছু ভুলের কারণে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি কম দেখায় বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের হিসেবে ৭ শতাংশের উপরে যে প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম।
আর জিডিপির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংক রক্ষণশীল নীতি অনুসরণ করে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
প্রবৃদ্ধি হিসাব করার ক্ষেত্র বিশ্বব্যাংক এবং বিবিএসের মধ্যে কিছু পদ্ধতিগত পার্থক্য আছে বলেও জানান ড. জাহিদ হোসেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এক বিশ্লেষণে গত অক্টোবরে দেশে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয় বিশ্বব্যাংক। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সরকারের সাময়িক হিসেবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.০৫ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস এবং সরকারি এ হিসেবের মধ্য তাহলে কেন এই পার্থক্য?
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলমের দাবি, বরাবরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিশ্বব্যাংক জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে ভুল হিসেব করেছে।
তার হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জিডিপিতে— এর পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির কারণে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।
তবে বিবিএসের হিসেব নিয়ে সন্দেহ আছে বিআইডিএসের মহাপরিচালকের কারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বিবিএস যে হিসেবে প্রকাশ করেছে তাতে প্রবৃদ্ধির হিসেবে ঠিক যুক্তিসঙ্গত নয়।
নিজেদের কাছে তথ্য-উপাত্ত কম থাকার কথা স্বীকার করেন ড. জাহিদ হোসেন।
তবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাবাসে বিশ্বব্যাংকের কোনো ভুল নেই বলে দাবি তার।
বিবিএসের হিসেবে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৬ শতাংশ। শিল্পে ১০.১০ এবং সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.৮৭ শতাংশ। যার ফলে সামগ্রিকভাবে আগের চেয়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে।