মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলছে না কর্মসংস্থানের হিসাব। গত দুই অর্থবছরে যে হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তাতে ওই সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা কমপক্ষে ৩০ লাখ লোকের। তবে বিবিএসের হিসেবে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৬ লাখ লোকের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্মসংস্থানের হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে। আর প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
বিগত দুই অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬% বেশি হারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১% প্রবৃদ্ধিতে, কর্মসংস্থান বাড়ে আড়াই লাখ লোকের। সে হিসেবে ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের।
বিবিএসের ২০১৫ সালের হিসেবে, দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ৮৭ লাখ আর ২০১৩ তে এ সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮১ লাখ। সে হিসেবে দুই বছরে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৬ লাখ লোকের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মসংস্থান নিয়ে বিবিএসের হিসেবে বড় ধরণের গলদ আছে।
আইএলওর মানদণ্ড অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা কাজ করে, এমন লোকদেরকেও কর্মরত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে বিবিএস।
বিবিএস এর কর্মসংস্থান জরিপে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, এই দুই অর্থবছরে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ৪০ হাজার। সার্বিকভাবে বেকারত্বের হার ৪.২৯%। যার মধ্যে ৭৪% এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়স্ক তরুণ-তরণী। সে হিসেবে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার তরুণ-তরুণীর কাজের কোনো সুযোগ নেই।