চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হবে—উল্লেখ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচি- এডিপির বাস্তবায়নও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না বলে মনে করে সেন্টার পর পলিসি ডায়লগ- সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
রোববার সকালে রাজধানীতে বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, দিন দিন অর্থপাচারের ঝুঁকি আরো বাড়ছে। অর্থপাচার রোধ করতে, বেনামী সম্পতি ঘোষণা দিয়ে বৈধ করার সুযোগ বাজেটে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
চলতি অর্থবছরের বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করারও পরামর্শ দেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় এ প্রসঙ্গে ৬টি বিষয় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, জাতীয় প্রবৃদ্ধি, আয় ও ব্যয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য ঝুঁকিকে অধিকতর গুরত্ব দেন। তার মতে বাজেটে এসব নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
রাজধানীর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে সিপিডি। এতে রাজস্ব আহরণ এবং এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার যে টার্গেট দেয়া হয়েছিল, তাতে কমপক্ষে ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে। প্রথম ৯ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচিরও মাত্র ৪১% বাস্তবায়ন হয়েছে। এসব বাস্তব চিত্র বিবেচনায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দেয় সিপিডি।
এদিকে, একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায়, ফিলিপাইনের মত বাংলাদেশও উন্মুক্ত শুনানি হওয়া উচিত বলে মনে করেন সিপিডির এ ফেলো।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যে কার্যকর নয়- রিজার্ভ চুরি নিয়ে অর্থমন্ত্রনালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আচরণে তা প্রকাশ পেয়েছে।