এখন থেকে বাংলাদেশে রপ্তানিতে ১০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে নেপাল— আর বাংলাদেশ পাবে ৫০ পণ্যে।
বুধবার রাজধানীতে সচিব পর্যায়ের দুদিনের বৈঠকে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি, ভিসা সহজীকরণ, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। আর পণ্যের মান যাচাই ও রপ্তানি সহজ করতে বিএসটিআই এবং নেপাল ব্যুরো অফ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড মেট্রোলজি- এনবিএসএমের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশ-ভারত চারদেশীয় সড়ক যোগাযোগ বা বিবিআইএনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কীভাবে বাণিজ্য বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করতেই নেপালের বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সোমবার ঢাকায় আসে।
দুদিনের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে পণ্য আমদানি রপ্তানি সহজ করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট এবং নেপাল ব্যুরো অব স্ট্যান্ডার্ডস্ অ্যান্ড মেট্রোলজির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
দুই দিনের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এ সব তথ্য জানান।
দুদেশের মধ্যে পণ্য আমদানিতে পারস্পারিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া, কাকরভিটা-পানিট্যাংকি-ফুলবাড়ি বাণিজ্য পথ পুরোপুরি চালু, রেল যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য নেপালে ব্যবসায়ী ভিসা সহজীকরণ এবং নেপালি নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে ১০০ পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় নেপাল অন্যদিকে বাংলাদেশেরও ৫০ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিতে একমত হয় নেপাল। নেপালের বাণিজ্য সচিব নায়ান্দ্র প্রসাদ উপাধ্যায়া জানান, এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে নেপালের বাণিজ্য যেমন বাড়বে তেমনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে ২৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য নেপালে রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশে ১১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য নেপাল থেকে আমদানি করা হয়।