আসছে স্বপ্নপুরণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বাজেট— সরকার স্বপ্ন দেখছে অর্থনৈতিক অবস্থার উত্তোরণ ঘটিয়ে সমৃদ্ধ দেশের কাতারে বাংলাদেশকে দাঁড় করানোর। এ লক্ষ্যেই আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার উপরে।
এবারই প্রথম মূল বাজেটের সঙ্গে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে একটি স্বতন্ত্র বাজেট থাকতে পারে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরত্ব দেয়া হচ্ছে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম, মনে করছেন, বাজেট অর্থায়ন এবং সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে এবারের বাজেটের মুল চ্যালেঞ্জ।
পদ্মা সেতু, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণসহ বড় বড় প্রকল্পের জন্য এবারই প্রথম স্বতন্ত্র বাজেট করার পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা স্বাস্থ্য, এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন খাতে এবার বরাদ্দের হার বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে সার্বিক উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, বাড়বে কর্মসংস্থান। আর প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাড়াবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সমৃদ্ধিশালী দেশের কাতারে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।
এ লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এ জন্য রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা সরকারের। এ লক্ষ্যে সবার জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন, করের আওতা বাড়ানো এবং সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের উপর করহার বাড়ানোর নির্দেশনা থাকছে এবারের বাজেটে। ব্যাংকের নীট মুনাফার উপর কর ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪২ শতাংশ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
তবে বাজেটের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন বেশ কষ্টসাধ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচি বাস্তবায়ন এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়কে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ।
এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের উপর কর বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই বলেই অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নির্দিষ্ট পরিমাণে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগও থাকছে আগামী বাজেটে।