রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে প্রতিবছরই হাকডাক ছাড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলনই দেখা যায় না। এবার রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না- সরকার ও ব্যবসায়ীরা এমন আশ্বাস দিলেও রমজান শুরুর দুই মাস আগে থেকেই অযৌক্তিকভাবে ছোলা, পেয়াজ, চিনিসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০%-৩৫%।
সরকার বলছে, দেশে চাহিদার তুলনায় নিত্যপণ্যের মজুদ আছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ, দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। আর ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ দায় চাপাচ্ছেন একে অন্যের উপর।
প্রতিবছর রোজা আসার আগেই সরকারের তরফ থেকে জোর গলায় বলা হয়, রমজানে স্থিতিশীল থাকবে নিত্যপণ্যের মূল্য।
আর এজন্য বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানামুখী উদ্যোগও গ্রহণ করে থাকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। তবে নিত্যপণ্যের মূল্যের উর্দ্ধগতি ঠেকানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এবারো রোজা শুরুর দেড় মাস আগেই বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, রমজানে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালেই নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রীর এসব আশ্বাসের প্রমাণ বাজারে গেলে মেলেনা। রমজানের প্রায় দুই মাস আগে থেকেই ছোলা, চিনি, মসুর ডালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ানো হয়েছে অযৌক্তিকভাবে। খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারদের।
আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তবে বাণিজ্যসচিব দেশে প্রয়োজনের তুলনায় নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত আছে জানিয়ে বলেছেন অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপে পকেট কাটা যাচ্ছে ভোক্তাদের। তাই পণ্যের নায্য দাম নিশ্চিতে, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা কামনা করছেন তারা।