রমজানে ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেলসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি—এবারও রোজার আগেই ছোলা ও চিনির দাম বেড়েছে ২০%-৩৫%। কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার দরের প্রভাবের কথা বললেও, চিনির দাম বাড়ার জন্য সরকারকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কারণে মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী হলেও মূল কারণ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অধিক মুনাফার লোভ।
রমজান আসলেই নিত্যপণ্যের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ে ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, পেয়াজ-রসুন-কাঁচামরিচ, বেগুণসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের। মূলত এসব পণ্যের মূল্য বিবেচনায় রোজার সময় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে কি-না তা বোঝা যায়।
অন্যান্য পণ্যের মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও ছোলা, চিনি, বিদেশি রসুনসহ কয়েকটি পণ্য দিন দিনই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশে প্রতিবছর ছোলার চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন। যার মধ্যে রমজানেই এর চাহিদা ৫০ হাজার টনের মতো।
অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে বর্তমানে দেশে ছোলার মজুদ রয়েছে প্রায় দুই লাখ ৬৫ হাজার টন।
সারাবছর এ পণ্যটির মূল্য ৬০-৬৫ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও রমজানের মাস দুয়েক আগে থেকে ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধি হয়ে এখন খোলাবাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে বর্তমানে আমদানিকারকদের কাছে যে পরিমাণ ছোলা মজুদ রয়েছে আমদানি খরচসহ এর মূল্য পড়েছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারেই এ ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে।
দাম বৃদ্ধির পেছনে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর অসাধু তৎপরতাকেই দায়ী করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
গত দেড়/দু মাস ধরে চরম অস্থিতিশীল দেশের চিনির বাজারও। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের তথ্যমতে, আমদানি খরচসহ মিলগেটে চিনির মূল্য হওয়া উচিৎ ৪১ থেকে ৪২ টাকা।
অথচ বর্তমানে মিলগেটেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার উপরে। অবশ্য ব্যবসায়ীরা এজন্য সরকারের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করছেন।
এদিকে, স্থিতিশীল রয়েছে ভোজ্যতেল, পেয়াজসহ বেশ কিছু পণ্যের মূল্য আর রোজার আগে সরকারি সংস্থা টিসিবি ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।