শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়— সুইফট কোড ব্যবহার করে তিন বছর আগে সোনালী ব্যাংকের আড়াই লাখ ডলারও একই কায়দায় চুরি করেছিল হ্যাকাররা।
বিষয়টি সুইফটকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানালেও তুরস্কে পাচার হওয়া ওই অর্থের হদিস এখনো মেলেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমনই তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে, তিন বছর আগের এই ঘটনাটির সঙ্গে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ চুরির ঘটনার কোন যোগসূত্র আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট হয়। হ্যাকিংয়ের এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁত নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়। তবে বরাবরই তা প্রত্যাখান করে আসছে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদানপ্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান- সুইফট।।
তবে প্রায় তিনবছর আগে ২০১৩ সালের সোনালী ব্যাংকের অর্থ চুরি ঘটনায়ও সুইফট ম্যাসেজিং প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের ভুয়া অনুরোধ পাঠিয়ে এ চুরি হয়েছিল। ঘটনাটি সুইফট কর্তৃপক্ষকে জানালো হলেও তুরস্কের একাউন্টে সরিয়ে ফেলা সেই টাকা আর উদ্ধার করা যায় নি। এমনই দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদেন।
প্রতিবেদন আরো বলছে, ওই ঘটনায় হ্যাকাররা ব্যাংকের কোনো একটি কম্পিউটারে কি লগার সফটওয়্যার বসিয়ে পাসওয়ার্ড চুরি করে। পরে সেই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই ভুয়া সুইফট মেসেজ পাঠানো হয়।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত রয়টার্সকে বলেছেন, সেই হ্যাকিংয়ের জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে গেছে। চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কৌশলের সঙ্গে মিল থাকায় সোনালী ব্যাংকের ঘটনাটি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করছে এ ঘটনার তদন্ত থাকা পুলিশ। এমনকি দুই ঘটনার মধ্যে কোন যোগসূত্র আছে কিনা তাও বোঝার চেষ্টা করছেন তারা।