রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকি করার কথা দুই সিটি করপোরেশনের। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে তারা দায়সারাভাবে এ দায়িত্ব পালন করছে। মূল্য তালিকার যে বোর্ডগুলো টানানো আছে সেগুলোও যেন-তেনভাবে হালনাগাদ করেই দায়িত্ব শেষ করে সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের মূল্য তালিকা মেনে পণ্য বিক্রি করেন না কোনো দোকানিই।
আবার অধিকাংশ ক্রেতাই জানেনই না এ মূল্যতালিকার বিষয়টি। সব মিলিয়ে যে উদ্দেশ্যে বাজারে মূল্যতালিকা টানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল তা বলতে গেলে পুরোপুরি ব্যর্থ।
এটি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিটি করপোরেশনের টানানো মূল্য তালিকার চিত্র। এ মূল্য তালিকা অনুযায়ী মিনিকেট চালের দাম ঠিক করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। অথচ পুরো বাজার ঘুরেও ৪০টাকা কেজির কোনো মিনিকেটের খোঁজ মেলেনি।
শুধু যে মিনিকেট চালের ক্ষেত্রেই দামের এমন তারতম্য তা নয়। সিটি করপোরেশন অন্যান্য পণ্যের যে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, কোনো পণ্যই সে দামে বিক্রি হচ্ছেনা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন বাজার যাচাই না করেই মূল্য ধরে দিয়েছে টাঙানো তালিকায়।
সিটি করপোরেশন নির্ধারিত মূল্যের বাইরে পণ্যের মূল্য বেশি নেয়া হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এসব তদারকির জন্য সিটি করপোরেশনের কাউকেই বাজার ঘুরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে যেনতেনভাবে দাম লিখেই দায়িত্ব শেষ করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারেই মূল্যতালিকার বেহাল দশা। এসব তালিকায় বেশিরভাগ পণ্যের মূল্যই অস্পষ্টভাবে লেখা থাকায় তা বোঝা বড় দায়। আবার অনেক তালিকা এমন জায়গায় টাঙানো হয়েছে যা ভোক্তাদের চোখেও পড়েনা।
এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানিয়েছেন, রমজানে মূল্য তালিকার বাইরে দাম রাখলেই নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
আর ভোক্তারা বলছেন রোজা আসলেই বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারী সংস্থাগুলোর যে তোড়জোড় শুরু হয়, সারাবছর সেটি বজায় থাকলে রমজান মাসে আলাদা করে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো প্রয়োজন হতো না।