বরাবরের মতো এবারও সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা-ভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। যা মোট বাজেটের ১৩%।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে হিজড়া, দলিত, হরিজন ও বেদে, চা শ্রমিকসহ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে দ্বিগুণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন সুবিধা, খাদ্য নিরাপত্তা, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, দুঃস্থ ভাতা, ঘরে ফেরা কর্মসূচিগুলোর পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
সরকারের আগের ৬টি বাজেটের ধারাবাহিকতায় এবারও গুরুত্ব পেয়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার অনেক অগ্রসর হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের যৌক্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটঃ সামাজিক নিরাপত্তা খাত
• বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ভাতার হার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকায় উন্নীত করা।
• বিধবা স্বামী পরিত্যক্ত, দুস্থ নারীদের ভাতার হার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকায় উন্নীত করা। ভাতাভোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজারে উন্নীত করা।
• ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখে উন্নীত করা।
• মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ৯০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ লাখে উন্নীত করা।
• পৌরসভায় কর্মজীবি ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা প্রায় ২ লাখে উন্নীত করা।
• অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার ৬০০ টাকায় উন্নীত করা।
• সমাজের সুবিধাবঞ্চিত হিজড়া, দলিত, হরিজন, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ, চা শ্রমিকদের আপতকালীন খাদ্য সহায়তা এবং ক্যান্সার, কিডনী ও লিভার সিরোসিস আক্রান্ত গরীব রোগীদের জন্য বাজেটে কমপক্ষে ১০% বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাল্যবিয়ে বন্ধসহ নারীদের নানামুখী প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাব, শিশুর শারিরীক ও মানসিক বিকাশে যেসব কর্মসূচি রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, গণকবরসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি সংরক্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রকল্প চলমান থাকবে।
এবারও শিশুদের অধিকার ও প্রয়োজন ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিশু বাজেটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নারী উন্নয়নে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরি, নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে কর্মজীবী হোস্টেল নির্মাণ, ৭টি বিভাগীয় হাসপাতালে ডিএনএ টেস্ট ল্যাব প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব রয়েছে এবারের বাজেটে।