২০১৬-১৭ বাজেটে বিড়ি ও সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটে অর্থমন্ত্রী ১০টি সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। এবার সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে দেওয়া হবে না। সেটি ঠিক করবে সিগারেট কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সম্পূরক শুল্কহার ৪৮% থেকে বৃদ্ধি করে ৫০% নির্ধারণ করা এবং এর ঊর্ধ্বে যে দুটি স্তরে সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমান আছে, তাকে যথাক্রমে ৬১% ও ৬৩% থেকে বাড়িয়ে ৬২% ও ৬৪% নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন।
শুধু সিগারেট নয়— তামারজাত পণ্য হিসেবে বাড়ছে বিড়ির দামও। আগে যেখানে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার এক প্যাকেট বিড়ির দাম ছিল ৭ টাকা ৬ পয়সা, সেখানে তা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়াও ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম ছিল সাত টাকা ৯৮ পয়সা। নতুন বাজেটে তা ১২ টাকার বেশি পড়বে।
বাজেটে বিড়ি-সিগারেটের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জর্দা ও গুলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
আগে জর্দা ও গুলের জন্য নির্ধারিত সম্পূরক শুল্ক ছিল ৬০%। এবার বাজেটে তা আরো ৪০% বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১০০%।
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিড়ি-সিগারেটের মতো ভয়াবহ আরেকটি পণ্য হলো জর্দা ও গুল। বিগত কয়েক বছরে এ পণ্যটির করহার পরিবর্তন করা হয়নি। জর্দা ও গুলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ পণ্য দুটির ওপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্কহার ৬০% থেকে বৃদ্ধিপূর্বক ১০০% নির্ধারণ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিড়ির ভয়াবহতা সিগারেটের চেয়েও বেশি। একসময় দেশের দরিদ্র জনগণের বিনোদনের একমাত্র অবলম্বন ছিল বিড়ি। তবে বর্তমান সরকারের অর্জিত ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিনোদনের অনেক উপাদান পৌঁছে গেছে। এছাড়াও বিড়ি উপখাতটি অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যাও বর্তমানে নগণ্য।
তিনি আরো বলেন, দুই্ ধরনের বিড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার যথাক্রমে ২৫% ও ৩০% থেকে বাড়িয়ে ৩০% ও ৩৫% বৃদ্ধি করা হবে। এতে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার প্যাকেটের দাম হবে সাড়ে ১০ টাকা আর ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম হবে ১২ টাকার একটু ওপরে।
গত বছরের বাজেটেও এক দফা সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়। সর্বনিম্ন ১০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ১৫ থেকে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয় ১৮ টাকা। বিড়ির দামও বেড়েছিল প্যাকেটপ্রতি এক টাকার কিছু বেশি।
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের মতো বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ব্যবসা থেকে অর্জিত করযোগ্য আয়ের ওপর ৪৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।