আবারো নতুন মোড় নিলো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি— সুইফটের যে ৪টি ভুয়া বার্তা পেয়ে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ছাড় করেছিল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক। অথচ একদিন আগেই সন্দেহের কারণে তা গ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাংকটি।
নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে উদ্বৃত করে এমনই তথ্য দিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে ৩৫টি মেসেজ পাঠিয়েছিল হ্যাকাররা। প্রথমদিন তাতে সাড়া না দিলেও পরদিন এর পাঁচটিতে সাড়া দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকটি।
গত ফেব্রুয়ারিতে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদানপ্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান-সুইফটের কোড ভেঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। ফিলিপাইনের ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ক্যসিনোতে।
রিজার্ভ চুরির ওই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে এবার নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। যে চারটি সুইফট মেসেজে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ট্রান্সফারের অনুরোধ আসে, তা নিয়ে প্রথমে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সন্দেহ হওয়ায় তা আটকে দেয় তারা।
অবশ্য পরদিনই তা গ্রহণ করে অর্থ ছাড় করে ব্যংকটি। ফেডারেল রিজার্ভ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে উদ্বৃত করে এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।
এতে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্টের নামে ৩৫ টি সুইফট মেসেজ পায় ফেডারেল রিজার্ভ। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় সেদিন ওই বার্তাগুলো গ্রহণ করে নি ব্যাংকটি। পরদিন একই বাতাগুলো আবার আসলে তার মধ্য থেকে ৫ টি'র বিষয়ে সন্দেহমুক্ত হয়ে অর্থ ছাড় করা হয়।
রিজার্ভ চুরির এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকটি দায় অস্বীকার করে আসলেও একদিন আগে সন্দেহের পরদিনই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারে নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুইফট কোনো মন্তব্য না করলেও ফেডারেল রিজার্ভের দাবি, তহবিল স্থানান্তরের সুইফট বার্তা অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কোনো গলদ ছিল না।